আলফা ওয়েভ: মনোযোগ, সৃজনশীলতা ও আত্মিক প্রশান্তির বৈজ্ঞানিক রহস্য

❝দ্যা আলফা ওয়েভ❞

Definition: An “Alpha Wave” in the brain refers to a specific type of brainwave activity that falls within a frequency range of 8-13 Hz, typically associated with a relaxed state, daydreaming, or when someone is resting with their eyes closed, signifying a relatively calm and inactive mental state; essentially, the “idle” mode of the brain. – Google


কখন ব্রেনে আলফা ওয়েব রিলিজ হয়: খুব  ধ্যানের সাথে আল্লাহ তাআলার স্মরণ, জিকির, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত করা/শোনা, ব্রেন যখন খুব শান্ত থাকে, মনোযোগ অবস্থায়, মুক্ত বাতাসে হাঁটা, পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা, কোনো সৃজনশীল কাজ, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ভিজুয়াল স্টাইমুলেশন, ভোর রাতে বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময়, সকাল বেলায় ফজরের সময় থেকে বিশেষ করে,  ডিপ থিঙ্কিং ইত্যাদি করার সময় ব্রেনে আলফা ওয়েব রিলিজ হয়।

উপকারিতা:

১।সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায় – ব্রেনে আলফা ওয়েভ কম থাকলে বাম ব্রেনকে একাই সমস্যা চিন্তা করার লোডটা নিতে হয়, আলফা ওয়েভ বেশি থাকলে বাম, ডান ব্রেনের সংযোগ হয়, ফলে ব্রেনের দুই অংশ মিলে সমস্যা সমাধানের চিন্তা করে, ফলে সমাধান চিন্তা করা সহজ হয় । অংক করার আগে বা যে কোন সমস্যা সমাধানের আগে ৫-১০ মিনিট কোরআান পড়লে বা শুনলে বা জিকির করলে ব্রেনে আলফা ওয়েভ তৈরি হয় এবং এসব সমস্যা সমাধান করা অনেক সহজ হয় ।

২।কিভাবে আলফা লেভেল এ পড়াশোনা করা যায়? = গোছানো নিরিবিলি পরিবেশ লাগবে । মন বিক্ষিপ্ত হওয়ার উপাদানগুলো থেকে একটু দূরে থাকতে হবে । ধর্মীয় কাজ করলে যেমন নামাজ পড়লে, জিকির করলে, ধর্মীয় বই পড়লে আলফা লেভেল এ পড়াশোনা করা সহজ হয়।

৩।আলফা লেভেল এ পড়াশোনা করলে কি লাভ? = মনোযোগ বাড়বে, পড়া মনে থাকবে বেশী,পড়ায় আনন্দ হবে, বোরিং লাগবে না । ক্লান্তি আসবে না । চেহারায় ক্লান্তির ছাপ পড়বে না, বরং চেহারায় একটা গামার আসবে । মন ফ্রেশ থাকবে । মানসিক Growth ভালো হবে ।

৪। আলফা তরঙ্গ বেশি থাকলে মানুষ পাপ কাজ করতে পারে না । – মানুষের ব্রেইনে যখন আলফা তরঙ্গ বেশি থাকে, তখন বিবেক (Prefrontal cortex) সক্রিয় থাকে, তখন মানুষ পাপ কাজ করতে পারে না । নামাজ পড়লে, জিকির করলে, ধ্যান করলে ব্রেনে আলফা তরংগ বেশি তৈরি হয় ।

৫।গভীর মনোযোগে যারা পড়াশোনা করে, তারা মনে অনেক প্রশান্তি অনুভব করে। – দীর্ঘ দিন যারা মনোযোগে পড়াশোনা করে, তাদের মধ্যে Creativity তৈরি হয়, তারা Productive হয় ।

৬।গভীর মনোযোগে যারা পড়াশোনা করে তারা বিষণ্নতা অসুখে খুব কম ভুগে । – গভীর মনোযোগে পড়লে ব্রেনে সেরোটোনিন Release হয়, ফলে Depression অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কমে যায় ।

৭।ঘুম কম প্রয়োজন হয় – যারা কোরআন পড়ে, জিকির করে, তাদের ব্রেনে অনেক সময় ধরে আলফা ওয়েভ থাকে । তাদের ঘুম কম প্রয়োজন হয়, অল্প ঘুমে হয়ে যায় ।

৮।মনকে শান্ত করে । – আলফা ওয়েভ শরীরকে রিলাক্স করে । মনকে শান্ত করে । ব্রেনকে পরিচ্ছন্ন করে, ফলে ব্রেন সুষ্ঠভাবে চিন্তা করতে পারে ।

৯।ইতিবাচক চিন্তা বাড়ায় । নেতিবাচক চিন্তা কমায় । – ব্রেনের বিবেকের জায়গা অর্থাৎ Prefrontal Cortex তার আবেগের জায়গা অর্থাৎ Lymbic System-কে বাধা দেয়, হলে পজিটিভ সব চিন্তাভাবনা আসে।

১০।সৃজনশীলতা বাড়ায় । – লেখক, সাহিত্যিকদের ব্রেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকে ।

১১।খেলাধুলায় দক্ষতা বাড়ায় । – গলফ খেলার গবেষণায় দেখা গেছে, বেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকাকালীন সবচেয়ে সুন্দর শটটা খেলোয়াড়রা খেলতে পারে ।

১২।সুপার লার্নিং ।  – কম পরিশ্রমে তাড়াতাড়ি শেখাকে বলে সুপার লার্নিং। ব্রেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকাকালীন ব্রেনের বাম, ডান অংশের সংযোগ হয় ভালমত, ফলে দুই অংশ মিলে শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করে ।

Allah Subhanahu Wa Ta’ala knows best.

বই: ব্রেন ওয়েভস, ডাঃ মোহাম্মদ আবেদুর রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top