তারিখ: ০৭/০৬/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তাফসীরের সারসংক্ষেপ।
সূরা বাকারা: (আয়াত ২২৪-২২৫)
বিষয়: কসমের ব্যাপারে ইসলামের বিধান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়।
সম্পূর্ণ ক্লাসের অডিও রেকর্ডিংস
সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্ট:
যুদ্ধ সংক্রান্ত পরিভাষা-
গাজওয়া: রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে যে জিহাদে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন।
সারিয়া: যে অভিযানে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে অংশগ্রহণ না করে কোনো প্রতিনিধি বা সেনাপতি প্রেরণ করেছেন।
ঐতিহাসিক ঘটনা (গাজওয়ায়ে বনু মুস্তালিক):
এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর সঙ্গে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন।
হযরত সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল (রা.) কাফেলার সর্বশেষে থাকতেন, যাতে কারো কোনো জিনিস পড়ে গেলে তা সংগ্রহ করে আনতে পারেন।
হযরত আয়েশা (রা.) উটের পিঠে হাওদার মধ্যে অবস্থান করতেন।
এই সফরকে কেন্দ্র করে মুনাফিকরা হযরত আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটনা করে, যা ইসলামের ইতিহাসে “হাদিসাতুল ইফক” নামে পরিচিত।
অপবাদ দেওয়া (বুহতান) অত্যন্ত জঘন্য গুনাহে কবীরা।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর কসম
হযরত মিছতাহ ইবনে উসাসা (রা.) ছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর আত্মীয়। তিনি দরিদ্র ছিলেন এবং আবু বকর (রা.) নিয়মিত তাঁকে আর্থিক সহায়তা করতেন।
কিন্তু অপবাদের ঘটনায় মিছতাহ (রা.) জড়িয়ে পড়লে আবু বকর (রা.) কসম করেন যে, তিনি আর কখনো তাঁকে সাহায্য করবেন না।
তখন আল্লাহ তাআলা সূরা নূরের ২২ নম্বর আয়াত নাজিল করেন এবং নির্দেশ দেন যে, তারা যেন ক্ষমা করেন ও উপেক্ষা করেন। ফলে হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর কসম ভঙ্গ করে পুনরায় মিছতাহ (রা.)-কে সাহায্য করা শুরু করেন।
মূল শিক্ষা:
আল্লাহর নামে এমন কসম করা উচিত নয়, যা কোনো নেক কাজ, দান-সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা বা মানুষের কল্যাণমূলক কাজ থেকে বিরত রাখে।
সূরা বাকারা ২:২২৪ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তোমরা আল্লাহর নামকে তোমাদের কসমের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সৎকর্ম, তাকওয়া ও মানুষের মধ্যে মীমাংসা করা থেকে বিরত থেকো না।
কসমের প্রকারভেদ ও কাফফারা (সূরা মায়েদা: ৮৯)
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী কসম প্রধানত ৩ প্রকার:
১. কসমে লগভী (لغو)
অসাবধানতাবশত বা কথার ছলে মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়া কসম।
হুকুম: এতে গুনাহ নেই এবং কাফফারাও নেই।
২. কসমে ইয়ামিনুল গামুস (يمين الغموس)
জেনে-শুনে কোনো মিথ্যা বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম করা।
হুকুম: এটি অত্যন্ত বড় গুনাহে কবীরা। এর জন্য নির্ধারিত কাফফারা নেই; খাঁটি তাওবা করতে হবে এবং মানুষের হক নষ্ট হলে তা আদায় করতে হবে।
৩. কসমে ইয়ামিনুল মুনআকিদাহ (يمين منعقدة)
ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার বা না করার দৃঢ় সংকল্প করে কসম করা।
হুকুম: পরে কসম ভঙ্গ করলে কাফফারা ওয়াজিব হবে।
কসমের কাফফারা (সূরা মায়েদা: ৮৯)
নিম্নোক্ত তিনটির যেকোনো একটি পালন করতে হবে:
প্রথম বিকল্প:
১০ জন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো, যা নিজের পরিবারের সদস্যদের সাধারণত খাওয়ানো হয়।
দ্বিতীয় বিকল্প:
১০ জন মিসকীনকে পোশাক প্রদান করা।
তৃতীয় বিকল্প:
একজন দাস মুক্ত করা (বর্তমানে কার্যত প্রযোজ্য নয়)।
উপরোক্ত কোনোটি করতে অসমর্থ হলে
একটানা ৩ দিন রোজা রাখতে হবে।
উপসংহার:
ইসলাম কসমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করে। মুসলমানের উচিত সত্য বিষয়ে কসম করা, অপ্রয়োজনে কসম না করা এবং এমন কসম না করা যা তাকে নেক কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণের জন্য তাঁর বিধানসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যাতে বান্দারা সঠিক পথ অনুসরণ করে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে পারে।
শ্রুতি লিখন ও সংকলন :
আব্দুল্লাহ সৈকত
সহকারি অধ্যাপক
খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়
Leave a Reply