গত দুই সপ্তাহ হতে মুনাফিক এর বৈশিষ্ট্য এবং চরিত্র সম্পর্কে ধারাবাহিক ভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়ে আসছে, আলহামদুলিল্লাহ। আগের আলোচনা গুলো পড়তে এবং শুনতে এইখানে ক্লিক করুন, জুমুয়ার বয়ান, ০৯ সফর ১৪৪৮ হিজরি : মুফতি আব্দুল ওয়াদুদ সাহেব হাফিজাহুল্লাহ, বিষয়: ওয়াদা পূরণ — মুমিনের পরিচয়, মুনাফিকের বিপরীত বৈশিষ্ট্য । আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু: আমানত সম্পর্কে, ইনশাআল্লাহ।

নিচে পুরো খুতবার অডিও দেওয়া হলো, সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্টটি পড়ার সাথে সাথে পুরো অডিও রেকর্ডটি শুনলে সর্বোচ্চ ফায়দা হবে আশা করি, ইনশাআল্লাহ।
সম্পূর্ণ ক্লাসের অডিও রেকর্ডিং
সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্ট:
১. মুনাফিকের পরিচয় ও হাদিসের ব্যাখ্যা
আজকে হুজুর আলোচনার শুরুতে একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করা এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করা। তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআলাইহিস সালাম বলেছেন— “এমনকি যদি সে ব্যক্তি নিয়মিত নামাজ পড়ে, রোজা রাখে এবং নিজেকে বড় মুসলিম দাবি করে, তবুও আমানত খেয়ানত করলে সে মুনাফিক।” অর্থাৎ কেবল ইবাদত দিয়ে মুনাফেকি ঢাকা যায় না।
─ রেফারেন্স: সহীহ আল-বুখারী, হাদীস: ৩৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৫৯।
একই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন:
«لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ»
“যার আমানতদারিতা নেই, তার (পূর্ণ) ঈমান নেই; আর যে অঙ্গীকার রক্ষা করে না, তার (পূর্ণ) দ্বীন নেই।”
─ রেফারেন্স: Musnad Ahmad (12567), Shu’ab al-Iman (Al-Bayhaqi)।
২. আমানতের ব্যাপকতা ও প্রকারভেদ
সাধারণ মানুষ আমানত বলতে শুধু টাকা-পয়সা গচ্ছিত রাখাকে বোঝে। কিন্তু আমানত বলতে শুধু এইটুকু বুঝায় না, এর চেয়েও অনেক বিস্তির্ণ। হুজুর এটিকে দুটি মূল ভাগে ভাগ করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন:
- আমানতুন-নাস (মানুষের আমানত): কারো গচ্ছিত সম্পদ, কারো গোপন কথা, কারো সম্মান
বা কারো রেখে যাওয়া চিঠি। - আমানতুল্লাহ (আল্লাহর আমানত): আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে আমাদের আমানত। আমাদের এই জীবন, দ্বীন-শরীয়ত এবং আমাদের এই দেহ।
আমানতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রূপ —
─ আল্লাহর ইবাদত পালন করা।
─ পরিবার ও সন্তানের হক আদায় করা।
─ দায়িত্বপূর্ণ পদ ও নেতৃত্বের হক আদায় করা।
─ শিক্ষা ও জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার।
─ ডিজিটাল তথ্য, পাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ।
৩. কোরআনের আলোকে আমানতের গুরুত্ব
হুজুর সূরা আহযাবের ৭২ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন, আল্লাহ এই আমানত (শরীয়ত ও দায়িত্ব) আসমান, জমিন ও পাহাড়কে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা এর ওজন ও ভয়াবহতা দেখে
ভয়ে আঁতকে উঠেছিল এবং তা বহন করতে অস্বীকার করেছিল। অথচ মানুষ এই বিশাল দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে। যারা এটি রক্ষা করে না, আল্লাহ তাদের ‘জালেম’ ও ‘অজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন:
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا﴾
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা যেন আমানত যথাযথ ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দাও।” (সূরা আন-নিসা, ৪:৫৮)
৪. নিজের দেহ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একটি আমান
হুজুর বলেন, আমাদের এই হাত, পা, চোখ, কিডনি, শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ —সবই আল্লাহর আমানত। আমরা এগুলোর মালিক নই, কেবল পাহারাদার।
- অঙ্গ বিক্রি: শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, চোখ, কিডনি বা কলিজা বিক্রি করা বা অন্যকে দিয়ে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। এমনকি নিজের চুল বিক্রি করাও জায়েজ নেই। বক্তা গ্রাম-গঞ্জে বা শহরে ফেরিওয়ালাদের কাছে চুল বিক্রি করার কঠোর সমালোচনা করেন। তবে হ্যাঁ, ইসলামী ফিকহদের মতে, একজনের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় এইগুলা যথাযথ ব্যবহার করা যেতে পারে ইনশাআল্লাহ।
- রক্তদান: ওলামায়ে কেরাম কেবল জীবন বাঁচানোর জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদানকে জায়েজ বলেছেন, কারণ রক্ত পুনরায় তৈরি হয়, প্রায় ১২০ দিন অন্তর অন্তর। তবে রক্ত বিক্রি করাও হারাম।
তাফসীরে ইবন কাসীর ও তাফসীরে কুরতুবীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সূরা আহযাবের “আমানত” বলতে কেবল সম্পদ নয়; বরং আল্লাহর সমস্ত আদেশ-নিষেধ, ফরজ, ওয়াজিব এবং মানুষের হকও অন্তর্ভুক্ত।
─ রেফারেন্স: তাফসীর ইবন কাসীর (৩৩:৭২), তাফসীর আল-কুরতুবী (৩৩:৭২)।
৫. রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও দুর্নীতির চিত্র
হুজুর আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান যুগে মানুষ সরকারি সম্পদকে ‘লুট করা মাল’ (গনিমত) মনে করে। তিনি একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ দেন:
- হযরত আলী রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু -এর ইনসাফ: হযরত আলী রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু যখন রাষ্ট্রীয় কাজ করতেন, তখন সরকারি
তেলের বাতি জ্বালাতেন। যখন খলিফা ওমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাঁর ব্যক্তিগত কথা বলতে এলেন, আলী রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তৎক্ষণাৎ রাষ্ট্রীয় বাতি নিভিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, ব্যক্তিগত আলাপে রাষ্ট্রীয় তেল পোড়ানো খেয়ানত। হুজুর বর্তমান পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের এই আদর্শের সাথে তুলনা করে দুর্নীতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। - রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা হযরত আব্বাস রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু -এর বাড়ি ছিল। মসজিদ-এ-নববীর সাথে লাগানো। একেবারে মসজিদ-এ-নববীর দেয়াল ঘেঁষেই ছিল হযরত আব্বাসের বাড়ি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় মসজিদ-এ-নববীর ছাদের পানি আর হযরত আব্বাসের বাড়ির ছাদের পানি—এই দুই ছাদের পানি একটা ‘পরনালা (পানি পড়ার পাইপ) দিয়ে পড়ত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটার অনুমতি দিয়েছিলেন। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর জামানায় দুই বছর দুই মাস দশ দিন এটা এভাবেই ছিল, আবু বকর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কিছু বলেননি। হযরত ওমরের খিলাফতের সময় একদিন তিনি দেখলেন ওই পরনালা দিয়ে পানি পড়ছে। ওমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন, “বায়তুল মালের (রাস্তার) ওপর ভর করে ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হওয়া ইসলামী শরীয়তে হালাল না। এটা খুলে ফেলো।” সাথে সাথে তিনি রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআলাইহিস সালাম -এর চাচার ওই পানি পড়ার পরনালাটি খুলে ফেললেন। হযরত আব্বাস রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু যখন মদিনায় আসলেন, এসে দেখেন পরনালা খুলে ফেলা হয়েছে। তিনি হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন, “খলিফাতুল মুসলিমীন! আপনি ওই পরনালা কেন খুলেছেন?” ওমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন, “মসজিদ-এ-নববীর ছাদের পানি আর আপনার বাড়ির ছাদের পানি এক পরনালা দিয়ে পড়বে কেন? আপনার পরনালা বায়তুল মালের (সরকারি রাস্তা) ওপর দিয়ে পানি পড়ার অনুমতি তো আমি দিতে পারি না।” তখন হযরত আব্বাস রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন, “আমি সরকারি বা বায়তুল মালের অনুমতি নেইনি, আমি স্বয়ং আল্লাহর নবীর জীবদ্দশায় তাঁর থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম।” ওমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আঁতকে উঠলেন। তিনি বললেন, “যদি আল্লাহর নবী থেকে অনুমতি নেওয়া থাকে, তবে তো তা অবশ্যই হালাল। কিন্তু আমি তো তা জানতাম না। আমি তো না বুঝে আল্লাহর নবীর অনুমতির সাথে বেয়াদবি করে ফেলেছি! চলেন এখনই এটা লাগিয়ে দিয়ে আসব।” হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু গেলেন, হযরত আব্বাসও সাথে গেলেন। গিয়ে দেখলেন পরনালাটা উঁচুতে, হাত পায় না। তখন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু রুকুর মতো হয়ে পিঠ পেতে দিলেন এবং বললেন, “আপনি আমার পিঠের ওপর ওঠেন এবং পরনালাটি আগের জায়গায় লাগিয়ে দেন। দুনিয়াবাসী দেখুক যে আমি সরকারি অনুমতি না থাকার কারণে খুলেছিলাম, কিন্তু আল্লাহর নবীর অনুমতি থাকায় আমি নিজেই তা আবার লাগিয়ে দিচ্ছি।” এভাবেই হযরত আব্বাস রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমরের পিঠের ওপর চড়ে কপরনালাটি পুনরায় স্থাপন করলেন।
বর্তমান সময়ে অফিসের সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অফিসের সময়ে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা, সরকারি বিদ্যুৎ বা সরঞ্জাম ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার—এসবও রাষ্ট্রীয় আমানতের খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।
৬. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ডিজিটাল খেয়ানত
বর্তমান সময়ের একটি বড় ফেতনা নিয়ে হুজুর কথা বলেন। কারো ব্যক্তিগত কথা শোনা বা কারো ফোন কল রেকর্ড করে অনুমতি ছাড়া ভাইরাল করাকে তিনি ‘কবিরা গুনাহ’ ও আমানতের খেয়ানত বলে ঘোষণা করেন। কারো চিঠি বা মেসেজ লুকিয়ে পড়াও এই অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও এইগুলাও আমানতের অন্তর্ভূক্ত,
- অনুমতি ছাড়া Screenshot প্রকাশ করা।
- কারও Password বা OTP অন্যের কাছে প্রকাশ করা।
- Private Group-এর তথ্য বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া।
- AI বা Deepfake ব্যবহার করে কারও সম্মান নষ্ট করা।
- ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ভাইরাল করা।
৭. টিকিট ও বয়সের মিথ্যাচার
ট্রেন বা বিমানে যাতায়াতের সময় আমরা সামান্য টাকা বাঁচাতে বাচ্চার বয়স কমিয়ে বলি (যেমন: ৮ বছরের বাচ্চাকে ৫ বছর বলা)। হুজুর বলেন, এই ২-৩ হাজার টাকা বাঁচানোর জন্য আপনি যে মিথ্যা বললেন এবং রাষ্ট্রীয় হক নষ্ট করলেন, তা আপনার পুরো আমানতদারিতাকে ধ্বংস করে দেবে।
- হযরত আশরাফ আলী থানভী রহমতুল্লাহি আলাইহি -এর উদাহরণ: তাঁর এক খলিফা ট্রেনের হাফ-টিকিট কাটার
জন্য বাচ্চার বয়স কমিয়ে বলেছিলেন। এই সংবাদ পেয়ে থানভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর খেলাফত বাতিল
করে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন— “যে রাষ্ট্রের হক আদায় করতে পারে না, সে পীর হওয়ার
যোগ্য নয়।”
কিয়ামতের অন্যতম আলামত: আমানতের অবমূল্যায়ন,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।” সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “কিভাবে?”
তিনি বললেন, “যখন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা হবে।” ─ রেফারেন্স: সহীহ আল-বুখারী, হাদীস ৬৪৯৬।
৮. বিচার ব্যবস্থা ও ওকালতি পেশা
হুজুর অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আদালত ও বিচার ব্যবস্থার খেয়ানত নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মিথ্যা ছাড়া কোনো মামলা চলে না। অনেক বাবা গর্ব করে বলেন, “আমার ছেলে অ্যাডভোকেট হয়েছে, ব্যারিস্টার হয়েছে।” তিনি তাদের ‘শয়তানের দল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যদি তারা মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে মামলা লড়ে এবং জুলুম করে, তবে তারা সারা জীবন হারাম খাচ্ছে এবং তাদের জন্য কবরের আজাব অবধারিত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য কিয়ামতের দিন একটি পতাকা থাকবে, যার মাধ্যমে তাকে চিহ্নিত করা হবে।” ─ রেফারেন্স: সহীহ আল-বুখারী (৩১৮৮), সহীহ মুসলিম (১৭৩৫)।
৯. মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আমানতদারী
হুজুর মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৮৫১–১৯২০), যিনি শায়খুল হিন্দ নামে সমধিক পরিচিত, ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষক এবং ইংরেজবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের এক মহানায়ক এবং তিনি ঐতিহাসিক দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রথম ছাত্র ছিলেন। । -এর জীবনের একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ১০ টাকা। মাদ্রাসার ডিউটির সময় যদি কোনো ব্যক্তিগত মেহমান আসত এবং তাঁর সাথে ১০ মিনিট কথা বলতেন, তবে মাস শেষে তিনি প্রিন্সিপালকে বলতেন— “ব্যক্তিগত কাজে ১০ মিনিট ব্যয় করেছি, আমার বেতন থেকে সেই ১০ মিনিটের টাকা কেটে রাখুন।” এই ছিল আমানতদারীর চূড়ান্ত মানদণ্ড।
উপসংহার
হুজুর শেষ করেন এই বলে যে, যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই। আমরা শুধু নামাজ-রোজা আর তাসবিহ্ নিয়ে আছি, কিন্তু জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে খেয়ানত করছি, তার হিসাব দিচ্ছি না। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সরকারি রাস্তাঘাটের হক নষ্ট করা থেকে বেঁচে থাকার জন্য তিনি সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ﴾”হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না এবং জেনে-শুনে তোমাদের আমানতসমূহেও খেয়ানত করো না।” ─ সূরা আল-আনফাল, ৮:২৭
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আমানতদারি বজায় রেখে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।
─ সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্ট এবং পরিমার্জনে, মোহাম্মদ কাউছার আহমাদ সম্রাট, KYA-21, খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ।

সম্মানিত খতিব, কেজির মোড় জামে মাসজিদ, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ। উস্তাদের অমূল্য কথা গুলো, জুম্মার বয়ান (খুতবা) এবং তাফসির ক্লাস (দরস) নিয়মিত এইখানে আর্টিকেল আকারে সম্ভব হলে অডিওসহ পাবলিশ করা হয়, ইনশাআল্লাহ। সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্টটি পড়ার সাথে সাথে পুরো অডিও রেকর্ডটি শুনলে সর্বোচ্চ ফায়দা হবে আশা করি, ইনশাআল্লাহ।