তাফসির, সুরা বাকারা, ২:২৫২-২৫৪; আলোচ্য বিষয়: নবীগণের নিষ্পাপত্ব ও ওলামায়ে কেরামের উত্তরাধিকার: রিযিকের হাকিকত ও পরকালীন জবাবদিহিতা

Estimated reading time: 10 minutes
Article views: 47

উস্তাদ: মুফতি আব্দুল ওয়াদুদ হাফিজাহুল্লাহ, সম্মানিত খতিব, কেজির মোড় জামে মাসজিদ, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্ট: মোহাম্মদ কাউছার আহমাদ সম্রাট
তাফসির, সুরা বাকারা, ২:২৫২-২৫৪; আলোচ্য বিষয়: কুরআনের তৃতীয় পারার প্রারম্ভিক আলোচনা—নবীগণের ফজিলত, আলেমদের মর্যাদা ও
দানের গুরুত্ব।

নিচে পুরো ক্লাস/দরসের অডিও দেওয়া হলো, সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্টটি পড়ার সাথে সাথে পুরো অডিও রেকর্ডটি শুনলে সর্বোচ্চ ফায়দা হবে আশা করি, ইনশাআল্লাহ।

সম্পূর্ণ ক্লাসের অডিও রেকর্ডিং

সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্ট:

ভূমিকা:

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ফজল ও করমে কুরআনের প্রথম দুই পারার আলোচনা শেষ হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আজ ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি, রবিবার; তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৬। আজ দুই পারা শেষ হয়ে তৃতীয় পারা শুরু হচ্ছে। এই তৃতীয় পারার শুরুতেই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আম্বিয়ায়ে কেরাম বা নবীগণের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

১. নবী ও রাসূলগণের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং সংজ্ঞা:

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: ﴿تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ
بَعْضٍ﴾অর্থ: “এই রসূলগণ, আমি তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৩)

নবী হিসেবে আমাদের কাছে সকলেই সম্মানিত। সকলেই সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত—এটিই আমাদের
ঈমান। কিন্তু কারো ওপরে কারো ফজিলত বা শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহ দিয়েছেন, এ কথা আল্লাহ নিজেই বলছেন। তবে আমাদের ঈমান হলো, সমস্ত নবী-রাসূল আল্লাহর মনোনীত এবং প্রেরিত। কেউ ইচ্ছা করলেই নবী হতে পারেন না।

নবী পাঠানোর সিস্টেমটা কেমন ছিল? আল্লাহ কাউকে তাঁর পরিবারের জন্য, কাউকে এলাকার জন্য, কাউকে ইউনিয়নের জন্য, আবার কাউকে ওয়ার্ড বা বস্তির জন্য পাঠিয়েছেন। যাদের নতুন শরীয়ত ও কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের বলা হয় ‘রসূল’। আর যারা নতুন শরীয়ত পাননি বরং পূর্বের কিতাব বা পূর্বের নবীর অনুসারী ছিলেন, তাদের বলা হয় ‘নবী’।

হুজুর এখানে একটি সুন্দর উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। যেমন: প্রত্যেক মন্ত্রীই একজন এমপি (MP), কিন্তু প্রত্যেক এমপি মন্ত্রী নন। তেমনিভাবে প্রত্যেক রসূল একজন নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রসূল নন।

২. নবীগণের নিষ্পাপ হওয়া এবং তাসামুহ-এর ব্যাখ্যা:

সমস্ত নবীগণ ‘মাসুম’ বা নিষ্পাপ। যদি কারো অন্তরে নবীদের ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহ সৃষ্টি হয় যে—নাউযুবিল্লাহ—তিনি গুনাহগার ছিলেন বা পাপি ছিলেন, তবে ওই ব্যক্তির ঈমান থাকবে না। নবীদের কখনো কখনো ‘তাসামুহ’ বা বিচ্যুতি হতে পারে, কিন্তু সেটাকে
নাফরমানি বা গুনাহ বলা যাবে না।

হুজুর হজরত আদম আলাইহিস সালাম-এর নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল খাওয়ার উদাহরণ টেনে বলেন,
আল্লাহ তাঁকে ওই গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি গিয়েছিলেন। অনেকে একে
নাফরমানি বললেও বিষয়টি আসলে ছিল একটি ভুল বুঝাবুঝি। একটি বড় মাঠে যদি অনেকগুলো একই
জাতের গাছ থাকে, যেমন—নারিকেল গাছ; আল্লাহ যদি বলেন “এই গাছের কাছে যাবে না”, তখন শয়তান আদম আলাইহিস সালাম-কে বুঝিয়েছিল যে আল্লাহ শুধু নির্দিষ্ট ওই একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন, অন্য গাছগুলোর কাছে নয়। এটি ছিল ‘জুয’ (অংশ) বলে ‘কুল’ (সমগ্র) মুরাদ নেওয়ার একটি বিষয়। তিনি মনে করেছিলেন আল্লাহ কেবল নির্দিষ্ট গাছটি নিষেধ করেছেন, কিন্তু শয়তান তাঁকে ধোঁকা দিয়ে অন্য গাছে নিয়ে যায়। তিনি যেহেতু নবী এবং আল্লাহর খুব নিকটবর্তী ছিলেন, তাই এই সামান্য বিচ্যুতিকেও তিনি অনেক বড় মনে করেছেন এবং রোনাজারি করেছেন: ﴿رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ
লَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ﴾অর্থ: “হে আমাদের
পালনকর্তা! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং রহম
না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।” (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ২৩)

যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তাদের সামান্য বিচ্যুতিতেও অনেক অনুশোচনা হয়। হুজুর
এখানে উদাহরণ দেন—একজন মানুষের হাত থেকে অসাবধানতাবশত কুরআন শরীফ পড়ে গিয়েছিল বলে
তিনি অঝোরে কাঁদছিলেন। কারণ তাঁর ভেতরে তাকওয়া ছিল। অথচ অনেকে বড় বড় গুনাহ (সুদ, ঘুষ, পরের জমি দখল) করেও কোনো অনুতাপ বোধ করে না।

৩. ওলামায়ে কেরামের মর্যাদা ও মিরাসের হাকিকত:

নবীগণের পরে মাখলুকাতের মধ্যে সবচাইতে উঁচু মর্যাদা হলো ওলামায়ে কেরামের। হজরত আবু হুরায়রা রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু একবার বাজারে গিয়ে দোকানদারদের বলেছিলেন, “তোমরা এখানে পড়ে আছো, অথচ মসজিদে নববীতে রসূল ﷺ-এর মিরাস (উত্তরাধিকার) বণ্টন হচ্ছে।” লোকেরা দৌড়ে গিয়ে দেখল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের মাঝে ইলম বণ্টন করছেন। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «العُلَمَاءُ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ» অর্থ: “আলেমরা হলো নবীগণের উত্তরাধিকারী।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৪১)

হুজুর এখানে ‘নায়েব’ এবং ‘ওয়ারিশ’-এর পার্থক্য বুঝিয়ে বলেন: নায়েব বা স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি হলো অস্থায়ী; মালিক ফিরে আসলে তাকে পদ ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী হলো স্থায়ী; মালিক চলে গেলে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিক হয়ে যায়। আলেমরা হলো নবীগণের উত্তরাধিকারী।

রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর হজরত ফাতেমা রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা, হজরত আলী রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এবং হজরত আব্বাস রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হজরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর কাছে মিরাস দাবি করেছিলেন। কিন্তু আবু বকর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে নবীদের কোনো পার্থিব মিরাস বা স্থাবর সম্পত্তি থাকে না; তাঁদের মিরাস হলো আসমানি ইলম, যা ওলামাদের মাঝে বণ্টিত
হয়ে গেছে। খাইবার বিজয়ের পর ‘ফাদাক’ নামক একটি বাগান নবীজির পরিবারের জন্য ওয়াকফ ছিল, যা নবীজির স্ত্রীরা বেঁচে থাকা পর্যন্ত ভোগ করেছেন। হজরত আয়েশা রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা নবীজির ইন্তেকালের ৪৮ বছর পর ৫৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। নবীজির শেষ স্ত্রী হজরত মায়মুনা রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা মক্কা ও মদীনার মাঝামাঝি ‘সরিফ’
নামক এলাকায় থাকতেন, যেখানে নবীজি তাঁকে বিবাহ করেছিলেন।

৪. আলেমদের অবমাননার পরিণতি:

কিয়ামতের দিন সবচাইতে বেশি সাজা হবে তাদের, যারা নবীগণকে এবং আলেমদের লাঞ্ছিত বা হত্যা করেছে। হুজুর বলেন, আলেমদের রক্ত এবং ইজ্জত বিষাক্ত। যে জমিনে আলেমদের রক্ত পড়ে, সেখানে বিষ চড়ায়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বহু বছর আগে সাতনাঠিয়া এলাকায় একজন হক্কানী আলেমকে (মওলানা আব্দুল জলিল সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি) রক্তাক্ত করার পর সেখানে ভয়াবহ ঝড় হয়েছিল। মুমিনের ‘ফিরাত’ বা অন্তর্দৃষ্টিকে ভয় করা উচিত, কারণ তারা আল্লাহর নূর
দিয়ে দেখেন।

৫. আম্বিয়ায়ে কেরামের বিশেষ ফজিলত ও রসূলুল্লাহ ﷺ-এর শান:

আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন নবীকে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম
আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলতেন (কালিমুল্লাহ)। হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ছিলেন
‘খলিলুল্লাহ’। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সম্মান আল্লাহ সবচাইতে উঁচুতে রেখেছেন। আল্লাহ বলেছেন: ﴿وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ﴾ অর্থ: “আমি আপনার আলোচনাকে (মর্যাদাকে) উচ্চ করেছি।” (সূরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত: ৪)

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-এর নামের সাথে নবীজির নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ—এই কালিমায় ২৪টি অক্ষর আছে। ওলামারা বলেন, মানুষের দিনের ২৪ ঘণ্টার গুনাহ মাফের জন্য এই কালিমার অক্ষরগুলো যথেষ্ট। সকালে এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার এই কালিমা বা জিকির পাঠ করার অনেক সওয়াব। কিয়ামতের দিন ইসমাইল জবিহুল্লাহর বংশের ১০০ জন গোলাম আজাদ করলে যে সওয়াব হয়, তার চাইতেও বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। সুবাহানাল্লাহ।

৬. হজরত সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর ইসলাম গ্রহণ ও মুজিজা:

হজরত সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর জীবন ছিল সত্যের সন্ধানে এক দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর সফর। বক্তা উল্লেখ করেছেন যে, হজরত সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর হায়াত বা বয়স ছিল ৩৫০ বছর। কোনো কোনো বর্ণনায় ২৫০ বছর আসলেও বক্তা ৩৫০ বছরের বর্ণনাটির ওপর জোর
দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘ এই জীবনে সত্য দ্বীনের খোঁজে একে একে ১১ জন মনিব বা ধর্মযাজকের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তাঁদের অধীনে কাজ করেছেন।

সবশেষ মনিব ছিলেন একজন ইহুদি আলেম। হজরত সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন যে, আপনার ইন্তেকালের পর আমি কোথায় যাব বা কার কাছে দ্বীন শিখব? তখন ওই আলেম তাকে বলেছিলেন, “তুমি ‘ইয়াসরিব’ (মদীনার পূর্ব নাম) নামক এলাকায় চলে যাও। যেখানে খেজুরের গাছ অনেক বেশি, সেই জায়গায় একজন নবীর আগমন ঘটবে। তাঁর নাম হবে মুহাম্মদ, বাবার নাম আবদুল্লাহ এবং মায়ের নাম আমেনা।”

ওই আলেম নবীকে চেনার জন্য সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-কে তিনটি অকাট্য আলামত বা চিহ্ন বলে দিয়েছিলেন: ১. তিনি সদকার মাল বা দান খাবেন না, কিন্তু হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ করবেন। ২. তাঁর পিঠের দুই কাঁধের মাঝখানে ‘মোহরে নবুওয়াত’ (নবুওয়াতের সিল) থাকবে। ৩. তাঁর দয়া বা রহমত তাঁর রাগের ওপর প্রাধান্য পাবে (অর্থাৎ তিনি প্রচণ্ড রাগের
মুহূর্তেও দয়া করবেন)।

হজরত সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু মদীনার এক ইহুদির অধীনে কাজ শুরু করেন। একদিন তিনি খেজুর গাছের ওপরে উঠে মরা ডালপালা ও ছাল পরিষ্কার করছিলেন। এমন সময় মদীনার ছোট ছোট
বাচ্চারা একটি গান গাইতে গাইতে আসছিল— ‘তালাআল বাদরু আলাইনা’ (আমাদের ওপর পূর্ণিমার
চাঁদ উদিত হয়েছে)। বাচ্চাদের এই গান শুনেই সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর মনে সন্দেহ জাগল। তিনি তড়িঘড়ি করে গাছ থেকে লাফ দিয়ে নিচে নামলেন। তাঁর অস্থিরতা দেখে ইহুদি মনিব তাঁকে একটি চড় মারল এবং জিজ্ঞেস করল কী হয়েছে। কিছুক্ষণ পর একজন লোক এসে মনিবকে বলল যে, আজ ইয়াসরিবে (মদীনায়) একজন নবীর আগমন ঘটেছে। সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর হুঁশ থাকল
না, তিনি মনে মনে আলামতগুলো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকলেন।

প্রথম পরীক্ষা (দয়া ও রহমত): সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সর্বপ্রথম যখন নবীজির কাছে গেলেন, তখন তিনি পরীক্ষা করার জন্য নবীজির সাথে কিছুটা রূঢ় বা খারাপ আচরণ করলেন। তিনি
দেখতে চাইলেন নবীজি রাগ করেন কি না। কিন্তু নবীজি (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের বললেন, “তোমরা ওকে কিছু বলো না, ও বৃদ্ধ মানুষ।” তখন নবীজির বয়স ছিল কম, কিন্তু সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর বয়স ছিল সোয়া তিনশ বছরের মতো। নবীজির এই অসীম ধৈর্য দেখে তিনি প্রথম আলামতটি পেয়ে গেলেন।

দ্বিতীয় পরীক্ষা (সদকা ও হাদিয়া): পরদিন সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কিছু খেজুর নিয়ে নবীজির কাছে গেলেন এবং বললেন, “এটা সদকা।” নবীজি (ﷺ) সেই খেজুর নিজে না খেয়ে তাঁর গরিব
সাহাবীদের দিয়ে দিলেন। এরপর সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আরও কিছু খেজুর নিয়ে বললেন, “এটা হাদিয়া।” তখন নবীজি (ﷺ) সেই খেজুর গ্রহণ করলেন এবং নিজে খেলেন। এভাবে তিনি দ্বিতীয়
আলামতটিও নিশ্চিত করলেন।

তৃতীয় পরীক্ষা (মোহরে নবুওয়াত): সবশেষ আলামতটি দেখার জন্য তিনি নবীজির পেছনে পেছনে
ঘুরছিলেন। নবীজি তখন একটি জানাজায় ছিলেন। জিবরাইল আলাইহিস সালাম এসে নবীজিকে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! সালমান আপনার মোহরে নবুওয়াত দেখার জন্য ঘুরছেন।” তখন নবীজি (ﷺ) তাঁর
গায়ের চাদরটি পিঠের দিক থেকে একটু সরিয়ে দিলেন। হজরত সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু দেখলেন, দুই বাহুর মাঝখানে কবুতরের ডিমের মতো উঁচু এক টুকরো গোশত, যাতে তিনটি লাইনে লেখা—
প্রথম লাইনে ‘মুহাম্মদ’, মাঝের লাইনে ‘রসূল’ এবং নিচের লাইনে ‘আল্লাহ’। এই দৃশ্য দেখে সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আর স্থির থাকতে পারলেন না, তিনি সাথে সাথে সেই মোহরে নবুওয়াতে চুম্বন করলেন এবং কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন।

মুক্তির শর্ত ও অলৌকিক খেজুর বাগান: সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তখন দাসের অধীনে ছিলেন। তিনি নবীজির কাছে তাঁর মুক্তির আর্জি জানালেন। ইহুদি মনিব তাঁর মুক্তির জন্য কঠিন
শর্ত দিল— ৩০০টি খেজুরের বীজ রোপণ করতে হবে এবং ৬ মাসের মধ্যে সেই বীজ থেকে গাছ হয়ে
তাতে ফল আসতে হবে। যদি ফল আসে, তবেই তিনি মুক্ত। মানুষের পক্ষে ৬ মাসে খেজুর ফলানো
অসম্ভব ছিল। সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু নবীজির কাছে এসে বিষয়টি বললেন। নবীজি (ﷺ) বললেন, “চলো, বীজগুলো হাতে নাও।”

নবীজি (ﷺ) নিজে গর্ত করলেন এবং সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বীজগুলো নবীজির হাতে দিচ্ছিলেন আর নবীজি সেগুলো রোপণ করছিলেন। মোট ৩০০টি বীজের মধ্যে একটি বীজ হজরত উমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু নবীজির হাত থেকে নিয়ে নিজে লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ৬ মাস পর দেখা গেল ২৯৯টি গাছেই ফল চলে
এসেছে, কিন্তু উমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর লাগানো সেই একটি গাছে ফল আসেনি। সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এসে বিষয়টি নবীজিকে জানালে উমর রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু স্বীকার করলেন যে, একটি বীজ তিনি নিজ হাতে
লাগিয়েছিলেন। এরপর নবীজি (ﷺ) সেই চারাটি তুলে পুনরায় নিজ হাতে রোপণ করে দিলেন এবং সাথে সাথে আল্লাহর কুদরতে সেটিও ঠিক হয়ে গেল এবং ফল দিল। এভাবেই অলৌকিকভাবে সালমান ফারসি রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেন।

৭. হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম ও মারইয়াম আলাইহিস সালাম-এর ঘটনা:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হজরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম-কে অনেক স্পষ্ট দলিল এবং মুজিজা দিয়েছিলেন। হুজুর বলেন, সব নবীকেই আল্লাহ কোনো না কোনো বিশেষ ফজিলত দিয়েছেন, তবে হজরত ঈসাকে যা দিয়েছেন তা অনন্য। তাঁর প্রথম বড় মুজিজা হলো—তিনি কোনো পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছেন। আল্লাহ পাক তাঁকে বাপ ছাড়াই দুনিয়াতে
পাঠিয়েছেন।

হজরত মারইয়াম আলাইহিস সালাম যখন বাইতুল মুকাদ্দাসের খেদমত করতেন, তখন তিনি
মেহরাবের ভেতরে থাকতেন। তাঁর খালু ছিলেন হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম। তিনি মারইয়ামকে মেহরাবের ভেতর রেখে বাইরে থেকে তালা মেরে চলে যেতেন। আল্লাহ জিব্রাইল আলাইহিস সালাম-কে দিয়ে রূহ ফুঁকিয়ে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জন্মের ব্যবস্থা করেন

আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন যে, মারইয়াম আলাইহিস সালাম যখন বাইতুল
মুকাদ্দাসের খেদমত করতেন, হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালম যখনই মেহরাবের দরজা
খুলতেন, দেখতেন সেখানে ‘বে-মৌসুমি ফল’ রাখা আছে। কাঁঠালের দিন না কিন্তু সেখানে কাঁঠাল আছে, আমের দিন না কিন্তু সেখানে আম আছে। জাকারিয়া আলাইহিস সালাম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতেন, “হে মারইয়াম, এগুলো কোত্থেকে আসলো?” মারইয়াম বলতেন, “এগুলো জান্নাত থেকে এসেছে।” জাকারিয়া আলাইহিস সালাম নিজেও নবী ছিলেন, তিনি বুঝে নিলেন এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নেয়ামত।

যখন মারইয়াম আলাইহিস সালাম-এর প্রসব বেদনা শুরু হলো, তখন তিনি প্রচণ্ড ভয়ে কাতর হয়ে পড়লেন। তিনি ভাবলেন, “আমি তো বাইতুল মুকাদ্দাসের খাদেম, মানুষ এখন আমাকে কী বলবে? এই বাচ্চা নিয়ে আমি যখন লোকালয়ে যাব, মানুষ তো আমাকে অপবাদ দেবে।” তিনি লোকালয় থেকে অনেক দূরে একটি জঙ্গলে চলে গেলেন। সেখানে বাচ্চা প্রসব হলো। আল্লাহ
তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তিনদিন কারো সাথে কথা না বলেন এবং রোজা (মৌনতা পালনের রোজা) রাখেন।

মারইয়াম আলাইহিস সালাম যখন কোলের শিশুকে নিয়ে শহরে ফিরলেন, মানুষ তাকে ঘিরে ধরল
এবং অপবাদ দিতে শুরু করল— “মারইয়াম! এই বাচ্চা তুমি কোত্থেকে আনলে? তোমার বাবা-মা তো খারাপ ছিল না।” মারইয়াম তখন আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কথা না বলে বাচ্চার দিকে ইশারা করলেন। লোকেরা আরও রেগে গিয়ে বলল, “তুমি কি পাগল হয়েছ? এই কোলের শিশুর সাথে আমরা কীভাবে কথা বলব?”

তখন মাত্র দুই-আড়াই ঘণ্টা বয়সের শিশু ঈসা আলাইহিস সালাম দোলনায় শুয়ে কথা বলে
উঠলেন। তিনি বললেন: ﴿قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي
نَبِيًّا * وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ﴾ অর্থ: “তিনি বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। আর আমি যেখানেই
থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন।” (সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩০-৩১)

হুজুর এখানে উল্লেখ করেন যে, আল্লাহ তাআলা দু’জন নবীকে ৪০ বছর বয়সের আগেই নবুওয়াত
দিয়েছিলেন— একজন হজরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম এবং অন্যজন হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম।

হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর বিশেষ মুজিজাসমূহ: ১. তিনি কবরের কাছে গিয়ে হাত দিয়ে আঘাত করে বলতেন, “কুম বি-ইজনিল্লাহ” (আল্লাহর হুকুমে দাঁড়িয়ে যাও), অমনি মৃত মানুষ জ্যান্ত
হয়ে কবর থেকে বেরিয়ে আসত। ২. জন্মগত অন্ধের চোখে হাত বুলিয়ে দিলে সে ভালো হয়ে যেত। ৩. কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগীর গায়ে হাত দিলে সে সাথে সাথে সুস্থ হয়ে যেত। ৪. মানুষ আগামীকাল ঘরে কী খাবে বা কী জমা করে রাখবে, ঈসা আলাইহিস সালাম তা না দেখেই বলে দিতে পারতেন।

আসমানে তুলে নেওয়ার ঘটনা: ইহুদিরা যখন দেখল ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং তিনি সত্য নবী, তখন তাদের অহংকার বাধা হয়ে দাঁড়াল। তারা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করল। তারা
নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করল যে, ঈসা আলাইহিস সালাম এখন ঘরে ঘুমাচ্ছে, চলো তাঁকে ধরে শূলে চড়িয়ে হত্যা করি। তারা একজনকে ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) দিনার দিয়ে ভাড়া করল যেন সে ঈসা আলাইহিস সালামকে ধরে দেয়। ওই ব্যক্তি যখন ঈসা আলাইহিস সালাম-এর ঘরে ঢুকল, ঠিক তখনই আল্লাহ জিবরাইল আলাইহিস সালাম -কে পাঠিয়ে হজরত ঈসাকে আসমানে তুলে নিলেন।

এদিকে যে ব্যক্তি ঈসাকে ধরার জন্য ঘরে ঢুকেছিল, আল্লাহ তার নাভি থেকে ওপরের অংশ হুবহু ঈসা আলাইহিস সালাম-এর সুরত বা চেহারার মতো করে দিলেন। বাইরে থাকা ইহুদিরা তখন ঘরে ঢুকে সেই ভাড়াটে লোকটাকেই ‘আসল ঈসা’ মনে করে ধরে নিয়ে গেল। সেই লোক বারবার বলছিল, “আমি ঈসা না, আমি তো তাকে ধরতে আসছিলাম।” কিন্তু তার চেহারা ঈসার মতো হয়ে যাওয়ায় কেউ তার কথা শুনল না। ইহুদিরা তাকেই ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করল। বর্তমানের খ্রিস্টানরা মনে করে যিশু বা ঈসাকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু পবিত্র কুরআন একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে : ﴿وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمْ﴾ অর্থ: “না তারা তাঁকে হত্যা করেছে, না তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে; বরং তাদের ধাঁধায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫৭)

হুজুর বলেন, তারা মক্করবাজি (ষড়যন্ত্র) করেছিল, আর আল্লাহও তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করেছিলেন। আর আল্লাহ হলেন সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।

৮. আল্লাহর পথে ব্যয় ও পরকালীন হিসাব:

আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেন: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِمَّا
رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ
وَلَا شَفَاعَةٌ﴾ অর্থ: “হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যা রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো সেই দিন আসার আগে, যে দিন কোনো বেচাকেনা, বন্ধুত্ব এবং সুপারিশ থাকবে না।” (সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৪)

রিজিক কেবল টাকা-পয়সা নয়; যা থেকে মাখলুক উপকৃত হয় তাই রিজিক—খাবার, পানি, ইজ্জত, এলেম, বুদ্ধি সব কিছুই রিজিক। কিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কেউ এক কদমও নড়তে পারবে না: ১. জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছ? ২. যৌবন কাল কীভাবে অতিবাহিত করেছ? ৩. সম্পদ কীভাবে কামাই করেছ? ৪. সম্পদ কীভাবে খরচ করেছ? ৫. যে ইলম বা জ্ঞান ছিল, তার ওপর কতটুকু আমল করেছ? (জামে’ আত-তিরমিজি: ২৪১৬, সুনানে দারেমি: ৫৪৪, মুসনাদে বাজ্জার: ৩৫৩৭, শুআবুল ঈমান: ১৬৪৭, আল-মু’জামুল কাবীর: ১০৩৩৬, মিশকাতুল মাসাবিহ: ৫১৯৭, সিলসিলাতুস সহীহাহ: ৯৪৬।)

হুজুর এখানে আব্বাসী হুজুর হাফিজাহুল্লাহ-এর একটি উক্তি উদ্ধৃত করেন: “জেনে যদি পাপ করো তবে তা
পাপ, আর না জেনে যদি পাপ করো তবে তা মহাপাপ।” কারণ দ্বীনি এলেম অর্জন করা ফরজ ছিল, আর আপনি তা শিখেননি।

উপসংহার ও উপদেশ:

আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত যার কাছে যা রিজিক আছে তা থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করা। আলেমকে আল্লাহ ইলম দিয়েছেন, তিনি তা দিয়ে মানুষকে পথ দেখাবেন। চিকিৎসকের কাছে ডাক্তারি বিদ্যা আছে, তিনি কিছু মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা দেবেন। কারো শক্তি আছে, তিনি অন্ধকে রাস্তা পার করবেন বা বৃদ্ধের বোঝা বহন করবেন। এগুলো সবই সদকা।

নিজেদের ইজ্জতকেও আল্লাহর জন্য ওয়াকফ করতে শিখতে হবে। হুজুর তাঁর জীবনের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, একবার পবিত্র জুমায় ইমামতি করতে যাওয়ার পথে এক ভ্যানচালক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। তিনি নিজের রাগ সংবরণ করে ইজ্জতকে আল্লাহর জন্য ওয়াকফ করে দেন। সাহাবী তালহা রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাঁর সবচাইতে প্রিয় বাগান আল্লাহর পথে দিয়ে দিয়েছিলেন। আমাদেরও উচিত প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করা। আল্লাহ আমাদের আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

তথ্যসূত্র (References):

আল-কোরআন:

  • সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৩, ২৫৪।
  • সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ২৩।
  • সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫৭।
  • সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩০।
  • সূরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত: ৪।
  • সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৪৯।

আল-হাদিস:

  • ওলামায়ে কেরাম নবীগণের উত্তরাধিকারী: সুনানে আবু দাউদ (৩৬৪১), তিরমিজি (২৬৮২)।
  • কিয়ামতের ময়দানে পাঁচটি প্রশ্ন: তিরমিজি (২৪১৬)।
  • মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি (ফিরাত): তিরমিজি (২৯২৭)।
  • নবীগণ কোনো দিনার বা দিরহাম মিরাস হিসেবে রেখে যান না: বুখারী (৬৭২৮), মুসলিম
    (১৭৫৭)।
  • কিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কেউ এক কদমও নড়তে পারবে না: জামে’ আত-তিরমিজি: ২৪১৬, সুনানে দারেমি: ৫৪৪, মুসনাদে বাজ্জার: ৩৫৩৭, শুআবুল ঈমান: ১৬৪৭, আল-মু’জামুল কাবীর: ১০৩৩৬, মিশকাতুল মাসাবিহ: ৫১৯৭, সিলসিলাতুস সহীহাহ: ৯৪৬।)

সীরাত ও ইতিহাস:

  • সালমান ফারসি (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের বিস্তারিত কাহিনী: মুসনাদে আহমাদ (২৩৫৩৬)।
  • হজরত আবু বকর (রা.) এবং ফাদাক বাগানের ইতিহাস: সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

✎ᝰ সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্ট by মোহাম্মদ কাউছার আহমাদ সম্রাট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top